সিলেট ১০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সুপেয় পানির সংকট : সুনামগঞ্জে অকেজো লক্ষাধিক নলকূপ

ক্লিক সিলেট ডেস্ক
  • প্রকাশ: ১১:২৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে
সুপেয় পানির সংকট : সুনামগঞ্জে অকেজো লক্ষাধিক নলকূপ

সুনামগঞ্জে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন জেলার বাসিন্দারা। হস্তচালিত সরকারি বেসরকারি বেশিরভাগ অগভীর নলকূপে পানি না আসায় চরম সংকটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষজন।

জানা যায়, তাপপ্রবাহ, অনাবৃষ্টি, নদীনালা ও খালবিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় নিচে নেমে গেছে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর। জলবায়ু পরিবর্তনের এমন নেতিবাচক প্রভাবের ফলে একে একে অকেজো হয়ে যাচ্ছে হস্তচালিত নলকূলগুলো। সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জ জেলায় লক্ষাধিক নলকূপে পানি না উঠায় সুপেয় পানির অভাব মেটাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তবে বর্ষায় এসব নলকূপে পানি সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক থাকে।

তথ্যমতে, জেলার সদর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, জগন্নাথপুর, শান্তিগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর তাহিরপুরসহ প্রায় সব উপজেলার সরকারি-বেসরকারি হস্তচালিত নলকূপগুলোর একই দশা। ফলে বিশুদ্ধ পানির জন্য ভরসা করতে হয় গভীর নলকূপের ওপর। তবে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য গভীর নলকূপ বসানো সামর্থের বাইরে। তারা চান সরকারি সহায়তা। এদিকে বিশুদ্ধ পানি সংকট নিরসনে সরকারিভাবে সাবমার্সেবল গভীর নলকূপ বসানো করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। সুনামগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্র জানা যায়, জেলার ১২ উপজেলায় সরকারি পর্যায়ে হস্তচালিত নলকূপ সচল রয়েছে ২৩ হাজার ৫৬৫টি। এ ছাড়াও বেসরকারি পর্যায়ে জেলায় লক্ষাধিক নলকূপ রয়েছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপের বড় একটি অংশ অকেজো হয়ে পড়ে।

এদিকে, পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পাঁচ বছর ধরে সুনামগঞ্জে হস্তচালিত নলকূপ স্থাপন বন্ধ করেছে বলে জানায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বেড়িগাঁওয়ের সোহাগ মিয়া জানান, পর পর দুইটি অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও পানির ভোগান্তি কমেনি। সরকারিভাবে সাবমার্সেবল টিউবওয়েলের জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। কোনো উপায় না পেয়ে লাখ টাকা খরচ করে নতুন আরেকটি সাবমার্সেবল টিউবওয়েল স্থাপন করেছি।

আব্দুল হালিম জানান, সুরমার উত্তর পাড়ে কোনো অগভীর নলকূপে পানি উঠেনা। মানুষ পানির চরম সংকটে আছে। সরকারিভাবে কিছু সাবমার্সেবল নলকূপ স্থাপন করা হলেও সেটি পর্যাপ্ত নয়।

এদিকে, হাওর এলাকার বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে গত পাঁচ বছরে জেলার ১২ উপজেলায় সরকারিভাবে ৫ হাজারের উপরে সাবমার্সেবল পাম্পযুক্ত গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া, তৃণমূল পর্যায়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রচেষ্টায় তাঁর নির্বাচনী এলাকা জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কাসেম জানান, জেলার সবকটি উপজেলায় কম বেশি এ সমস্যা রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে সরকার একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রতি মাসেই কোথাও না কোথাও সাবমার্সেবল পাম্পযুক্ত গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে মানুষ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারছেন বলে জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সুপেয় পানির সংকট : সুনামগঞ্জে অকেজো লক্ষাধিক নলকূপ

প্রকাশ: ১১:২৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪
সুপেয় পানির সংকট : সুনামগঞ্জে অকেজো লক্ষাধিক নলকূপ

সুনামগঞ্জে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন জেলার বাসিন্দারা। হস্তচালিত সরকারি বেসরকারি বেশিরভাগ অগভীর নলকূপে পানি না আসায় চরম সংকটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষজন।

জানা যায়, তাপপ্রবাহ, অনাবৃষ্টি, নদীনালা ও খালবিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় নিচে নেমে গেছে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর। জলবায়ু পরিবর্তনের এমন নেতিবাচক প্রভাবের ফলে একে একে অকেজো হয়ে যাচ্ছে হস্তচালিত নলকূলগুলো। সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জ জেলায় লক্ষাধিক নলকূপে পানি না উঠায় সুপেয় পানির অভাব মেটাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তবে বর্ষায় এসব নলকূপে পানি সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক থাকে।

তথ্যমতে, জেলার সদর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, জগন্নাথপুর, শান্তিগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর তাহিরপুরসহ প্রায় সব উপজেলার সরকারি-বেসরকারি হস্তচালিত নলকূপগুলোর একই দশা। ফলে বিশুদ্ধ পানির জন্য ভরসা করতে হয় গভীর নলকূপের ওপর। তবে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য গভীর নলকূপ বসানো সামর্থের বাইরে। তারা চান সরকারি সহায়তা। এদিকে বিশুদ্ধ পানি সংকট নিরসনে সরকারিভাবে সাবমার্সেবল গভীর নলকূপ বসানো করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। সুনামগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্র জানা যায়, জেলার ১২ উপজেলায় সরকারি পর্যায়ে হস্তচালিত নলকূপ সচল রয়েছে ২৩ হাজার ৫৬৫টি। এ ছাড়াও বেসরকারি পর্যায়ে জেলায় লক্ষাধিক নলকূপ রয়েছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপের বড় একটি অংশ অকেজো হয়ে পড়ে।

এদিকে, পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পাঁচ বছর ধরে সুনামগঞ্জে হস্তচালিত নলকূপ স্থাপন বন্ধ করেছে বলে জানায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বেড়িগাঁওয়ের সোহাগ মিয়া জানান, পর পর দুইটি অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও পানির ভোগান্তি কমেনি। সরকারিভাবে সাবমার্সেবল টিউবওয়েলের জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। কোনো উপায় না পেয়ে লাখ টাকা খরচ করে নতুন আরেকটি সাবমার্সেবল টিউবওয়েল স্থাপন করেছি।

আব্দুল হালিম জানান, সুরমার উত্তর পাড়ে কোনো অগভীর নলকূপে পানি উঠেনা। মানুষ পানির চরম সংকটে আছে। সরকারিভাবে কিছু সাবমার্সেবল নলকূপ স্থাপন করা হলেও সেটি পর্যাপ্ত নয়।

এদিকে, হাওর এলাকার বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে গত পাঁচ বছরে জেলার ১২ উপজেলায় সরকারিভাবে ৫ হাজারের উপরে সাবমার্সেবল পাম্পযুক্ত গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া, তৃণমূল পর্যায়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রচেষ্টায় তাঁর নির্বাচনী এলাকা জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কাসেম জানান, জেলার সবকটি উপজেলায় কম বেশি এ সমস্যা রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে সরকার একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রতি মাসেই কোথাও না কোথাও সাবমার্সেবল পাম্পযুক্ত গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে মানুষ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারছেন বলে জানান তিনি।