সিলেট ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার ফাঁ দ

ক্লিক সিলেট ডেস্ক
  • প্রকাশ: ১১:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪
  • / ২৭ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার ফাঁ দ

রুয়ান্ডায় যেতে এবং তিন হাজার পাউন্ড অর্থ পেতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে প্রতারক চক্র৷

এই চক্রটি আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের একটি স্বেচ্ছাপ্রত্যাবাসন কর্মসূচিকে ব্যবহার করছে৷ ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান ১৬ মার্চ এই খবর জানিয়েছে৷

সংবাদমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, প্রতারকেরা দুটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে৷ একটি হলো, সরকার ঘোষিত তিন হাজার পাউন্ড অর্থ নিয়ে দেয়ার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের শোষণ করা৷

আর অন্যটি হলো, ব্রিটেনে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডায় পাঠাতেই সরকার প্রণোদনা হিসাবে তিন হাজার পাউন্ড অর্থ দিচ্ছে বলে প্রচার করা৷

আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তাকারী বেসরকারি সংস্থা মাইগ্রেন্ট হেল্প-এর নাম দিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের ফোন দিচ্ছে প্রতারক চক্রের সদস্যরা৷ এসব ফোনগুলো দেয়া হচ্ছে নম্বর আড়াল রেখেই৷ ফরে, কলদাতার পরিচয় শনাক্ত করাও যাচ্ছে না৷

বিষয়টি নজরে আসার পর তাদের পক্ষ থেকে এমন কোনো কল করা হচ্ছে না বলে এক্স প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট দিয়েছে মাইগ্রেন্ট হেল্প৷

অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী সোনিয়া লেনেগান দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, প্রতারকদের ব্যবহার করা ফোন নম্বরগুলোর উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ঘটনা ভঙ্গুর মানুষের সঙ্গে প্রতারণার নিষ্ঠুর কৌশল৷

প্রত্যাবাসনে পুরস্কার
একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রকল্পের আওতায় তিন হাজার পাউন্ড অর্থের বিনিময়ে আশ্রয়প্রার্থীদের আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায় পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাজ্য৷ যেসব আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়েছে, তাদেরকেই এই প্রস্তাব দেয়া হতে পারে৷ এর মধ্য দিয়ে আশ্রয় প্রক্রিয়ার সৃষ্ট ব্যাকলগ দূর করতে চায় দেশটির সরকার৷

ব্রিটেনে হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন৷ তাদের অনেকের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে৷ কিন্তু যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বা মানবাধিকার রক্ষা হচ্ছে না এমন দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারছে না ব্রিটিশ সরকার৷

প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীরা যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে কাজ করতে পারেন না৷ কিন্তু রুয়ান্ডায় গেলে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন তারা৷ এছাড়া, প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অধীনে পাঁচ বছর অতিরিক্ত সহায়তাও পাবেন তারা৷

 

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে আসা আশ্রয়প্রার্থীবাহী নৌকা থামানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক৷ এমনকি নৌকা থামানোকে নিজের পাঁচ অগ্রাধিকারের একটি হিসাবে নিয়েছেন এই রাজনীতিবিদ৷

সেই পরিকল্পনার অধীনে সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়৷ কিন্তু গত বছর সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে সরকারের এই পরিকল্পনাকে বেআইনি বলে রায় দিয়েছে এবং পরিকল্পনাটি ব্রিটিশ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থি বলেও উল্লেখ করেছে৷

আদালতে বাধা কাটাতে রুয়ান্ডার সঙ্গে নতুন চুক্তি করে সরকার৷ এ জন্য পার্লামেন্টের মাধ্যমে আইন পাসের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷ এই আইন রুয়ান্ডাকে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য তথাকথিত নিরাপদ দেশ ঘোষণা করবে এবং অন্যান্য আইনি চ্যালেঞ্জগুলোকে ঠেকাতে পারবে৷

 

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরে স্বেচ্ছাপ্রত্যাবর্তন কর্মসূচির অধীনে অন্তত ১৯ হাজার মানুষকে যুক্তরাজ্য থেকে সরানো হয়েছে৷

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার ফাঁ দ

প্রকাশ: ১১:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪
যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার ফাঁ দ

রুয়ান্ডায় যেতে এবং তিন হাজার পাউন্ড অর্থ পেতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে প্রতারক চক্র৷

এই চক্রটি আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের একটি স্বেচ্ছাপ্রত্যাবাসন কর্মসূচিকে ব্যবহার করছে৷ ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান ১৬ মার্চ এই খবর জানিয়েছে৷

সংবাদমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, প্রতারকেরা দুটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে৷ একটি হলো, সরকার ঘোষিত তিন হাজার পাউন্ড অর্থ নিয়ে দেয়ার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের শোষণ করা৷

আর অন্যটি হলো, ব্রিটেনে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডায় পাঠাতেই সরকার প্রণোদনা হিসাবে তিন হাজার পাউন্ড অর্থ দিচ্ছে বলে প্রচার করা৷

আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তাকারী বেসরকারি সংস্থা মাইগ্রেন্ট হেল্প-এর নাম দিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের ফোন দিচ্ছে প্রতারক চক্রের সদস্যরা৷ এসব ফোনগুলো দেয়া হচ্ছে নম্বর আড়াল রেখেই৷ ফরে, কলদাতার পরিচয় শনাক্ত করাও যাচ্ছে না৷

বিষয়টি নজরে আসার পর তাদের পক্ষ থেকে এমন কোনো কল করা হচ্ছে না বলে এক্স প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট দিয়েছে মাইগ্রেন্ট হেল্প৷

অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী সোনিয়া লেনেগান দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, প্রতারকদের ব্যবহার করা ফোন নম্বরগুলোর উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ঘটনা ভঙ্গুর মানুষের সঙ্গে প্রতারণার নিষ্ঠুর কৌশল৷

প্রত্যাবাসনে পুরস্কার
একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রকল্পের আওতায় তিন হাজার পাউন্ড অর্থের বিনিময়ে আশ্রয়প্রার্থীদের আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায় পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাজ্য৷ যেসব আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়েছে, তাদেরকেই এই প্রস্তাব দেয়া হতে পারে৷ এর মধ্য দিয়ে আশ্রয় প্রক্রিয়ার সৃষ্ট ব্যাকলগ দূর করতে চায় দেশটির সরকার৷

ব্রিটেনে হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন৷ তাদের অনেকের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে৷ কিন্তু যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বা মানবাধিকার রক্ষা হচ্ছে না এমন দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারছে না ব্রিটিশ সরকার৷

প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীরা যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে কাজ করতে পারেন না৷ কিন্তু রুয়ান্ডায় গেলে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন তারা৷ এছাড়া, প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অধীনে পাঁচ বছর অতিরিক্ত সহায়তাও পাবেন তারা৷

 

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে আসা আশ্রয়প্রার্থীবাহী নৌকা থামানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক৷ এমনকি নৌকা থামানোকে নিজের পাঁচ অগ্রাধিকারের একটি হিসাবে নিয়েছেন এই রাজনীতিবিদ৷

সেই পরিকল্পনার অধীনে সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়৷ কিন্তু গত বছর সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে সরকারের এই পরিকল্পনাকে বেআইনি বলে রায় দিয়েছে এবং পরিকল্পনাটি ব্রিটিশ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থি বলেও উল্লেখ করেছে৷

আদালতে বাধা কাটাতে রুয়ান্ডার সঙ্গে নতুন চুক্তি করে সরকার৷ এ জন্য পার্লামেন্টের মাধ্যমে আইন পাসের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷ এই আইন রুয়ান্ডাকে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য তথাকথিত নিরাপদ দেশ ঘোষণা করবে এবং অন্যান্য আইনি চ্যালেঞ্জগুলোকে ঠেকাতে পারবে৷

 

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরে স্বেচ্ছাপ্রত্যাবর্তন কর্মসূচির অধীনে অন্তত ১৯ হাজার মানুষকে যুক্তরাজ্য থেকে সরানো হয়েছে৷